খাল খনন-বৃক্ষরোপণ : পরিবেশবাদীরা ব্যর্থ হলেও সরকার আগুয়ান

ছবি সংগৃহীত

 

মোস্তফা কামাল : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের এক মাসের মধ্যেই খাল খননের অভিযাত্রা। দিলেন একে একে নির্বাচনের সকল ওয়াদা পূরণের আশ্বাস। সরকার গঠনের পর মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই সরকার জানায়, ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারভিত্তিক কার্যক্রমের মধ্যে দেশব্যাপী ‘নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচি গুরুত্ব পায়। পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯৭৭ সালে প্রবর্তিত ‘স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন কর্মসূচি’র পদাঙ্ক অনুসরণ করে ২০২৬ সালে তিনি দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু করেছেন। গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা করা, সেচসুবিধা বৃদ্ধি, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এই  প্রকল্প। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর সরকার গঠন করে দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির এমন কিছু সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছেন, যা মানুষকে আশাবাদী করে তুলেছে।

অনেক বড় চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে দায়িত্ব গ্রহণের এক মাসের মধ্যেই একে একে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেন তিনি। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল ‘ফ্যামিলি কার্ড’। যেটি নিয়ে নানা অপপ্রচার চালানো হলে জনগণের মনে তৈরি হয় দ্বিধাদ্বন্দ্ব। সব অনিশ্চয়তা দূর করে তারেক রহমান ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।  ১৪ মার্চ ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের সরকারি সম্মানি প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

এতে দেশের হাজার হাজার মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন এবং মন্দির, বিহার ও গির্জার সেবকরা প্রথমবারের মতো সরাসরি রাষ্ট্রীয় ভাতার আওতায় এলেন। দ্রারিদ্র বিমোচনের জন্য দেশে জাকাত ব্যবস্থাপনাকে কীভাবে আরও কার্যকর ও সুশৃঙ্খল করা যায় সে সম্ভাবনা খুঁজে বের করতে দেশের শীর্ষ আলেমদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলা থেকে দেশের ৫৩টি খালের খনন কর্মসূচির উদ্বোধন।  নির্বাচনী ইশেতহারের অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২০ হাজার কিলোমিটার নদীনালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি নিয়েছে সরকার।

১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সালের মধ্যে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে কৃষিখাতে ‘সবুজ বিপ্লব’ আনতে এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন শুরু করেন। তারেক রহমানের আগামী ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল, নদী ও জলাধার খননের প্রধান উদ্দেশ্য সেচসুবিধা বৃদ্ধি, বন্যা ও জলবদ্ধতা দূর করা। খাল খননের পাশাপাশি এর তীরে ৭ হাজার বৃক্ষরোপণ এবং মাটির নিচের পানির স্তর ঠিক রাখতে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। খাল খনন ও পুনঃখননে কী প্রাপ্তি ঘটবে, এ বিষয়ে আগুয়ান ভূমিকার দায়িত্ব ছিল পরিবেশবাদীদের। তারা সেখানে ছিলেন দায়সারা। মাঝেমধ্যে কিছু তাগিদ ও তত্ত্ব কথার মধ্যেই দায়িত্ব শেষ করেছেন পরিবেশবাদীরা। খাল বা নদী পুনঃখননের ক্ষেত্রে পরিবেশবাদীদের কেবল খনন কাজের তদারকি নয়, বরং খনন-পরবর্তী টেকসই ব্যবস্থাপনা ও দখলমুক্ত রাখার বিষয়টি নিশ্চিতকরণে এখনো তাদের ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। আলামত বা নমুনা বলছে, পরিবেশবাদীরা তাদের এ দায়িত্বে ঘাটতি করলেও সরকার এগিয়ে যাবে তার অভীষ্ঠ লক্ষ্যে। মানুষ অপেক্ষমাণ দেশের মৃতপ্রায় খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের ফলো আপ এবং সাফল্য দেখতে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারদলীয় মন্ত্রী-এমপিদের খননযোগ্য খালের নাম, পরিধির তথ্য তৈরি করেছেন খুব কম সময়ের মধ্যে। বিভিন্ন জায়গায় খনন কাজে নেমে পড়েছেন তারাও। স্থানীয়ভাবে এই প্রকল্পে সমন্বয় করছে প্রশাসন। দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচি শুরু করার পর পরিবেশসম্মত উপায়ে তার ‘প্রবাহ-প্রকৃতি’ ঠিক রাখা ও রক্ষণাবেক্ষণে কর্তৃপক্ষের বাড়তি মনোযোগ দরকার, কারণ দখল, দূষণ বন্ধ না হলে সুফল আসবে না।

জিয়াউর রহমানের সময় এ কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে ৬৭৫.১৮ মাইল দীর্ঘ ১৯৩টি খাল খনন ও পুনঃখনন করা হয়। ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর যশোরের শার্শা উপজেলার উলশী এলাকায় ‘বেতনা নদী’ পুনঃখনন কাজ যখন উদ্বোধন করেন জিয়াউর রহমান, তখন তিনি সেনাপ্রধান ও উপপ্রধান সামরিক আইন প্রশাসক। তার এ কার্যক্রম শুরুর আগে দেশে ১০ শতাংশ জমিতে শুকনো মৌসুমে পানি সরবরাহ সম্ভব ছিল। খাল খনন কর্মসূচির পর অন্তত ৫২ লাখ একর জমিতে সেচের সুবিধা বৃদ্ধি পায়। এছাড়া মাছ উৎপাদন, পানি নিষ্কাশন ও নৌ চলাচলে সহায়ক হয় ওই প্রকল্প। বৃদ্ধি পায় খাদ্য উৎপাদন। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ ছিল গভীর সংকটের মুখে। যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি, ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো, খাদ্যঘাটতি, প্রশাসনে অস্থিরতা এবং সামাজিক অনিশ্চয়তা-সব মিলিয়ে নবীন রাষ্ট্রের সামনে ছিল পুনর্গঠনের কঠিন চ্যালেঞ্জ। মুক্তিযুদ্ধের পর দেশের শিল্প উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কৃষি খাত ছিল বিপর্যস্ত।

বিশ্বব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে মাথাপিছু আয় ছিল বিশ্বের নিম্নতমগুলোর একটি। সেই প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি রাষ্ট্র পরিচালনায় বাস্তববাদী, উৎপাদনমুখী এবং আত্মনির্ভর উন্নয়নের নীতি গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘সবুজ বিপ্লব’ ছিল সত্তরের দশকের শেষের দিকে দেশের কৃষি উৎপাদন ও খাদ্যে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে গৃহীত একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
এখন নতুন করে খাল খনন কর্মসূচির বিষয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় বলছে, এ কর্মসূচি কৃষি ও সেচ কার্যক্রমে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে, যা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে বলে একটা আশাবাদ সকলের মধ্যেই। এই কার্যক্রমের ফলে খরা প্রবণতা কমবে, অনদিকে বন্যা ও জলাবদ্ধতাও কমবে। যান্ত্রিক পদ্ধতিতে পুনঃখনন প্রকল্প শুরু করার পরিকল্পনা থাকলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা রয়েছে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর। এতে অনেক পরিবারের কমসংস্থান হবে। ১৯৯১ সালে সরকার গঠনের পর প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে নেওয়া খাল খননের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছিলেন। তিনি ১৯৯২ সালে কয়েকটি জেলায় তা শুরু করেন। পরে তা আর ব্যাপকতা পায়নি। সেখানে এবার  মাত্রা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্বাধীনতার আগে বাংলাদেশে নৌপথের দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ২৪ হাজার কিলোমিটার। পলি ও বালিতে ভরাট হয়ে বর্তমানে নৌপথ কমে হয়েছে চার হাজার কিলোমিটার।

বাংলাদেশ নদী রক্ষা কমিশনের ২০২২ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বিআইডব্লিউটিএ-এর তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, দেশে বর্ষা মৌসুমে যেখানে নৌপথ থাকে প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার, শুষ্ক মৌসুমে নৌপথ এসে দাঁড়ায় মাত্র ৪ হাজার ৩৪৭ কিলোমিটারে। একসময় গ্রামবাংলার জনপদ, কৃষি ও জীবিকার সঙ্গে খালগুলোর সম্পর্ক ছিল অবিচ্ছেদ্য। কিন্তু অবহেলা, দখল ও অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে দেশের অসংখ্য খাল আজ মৃতপ্রায়। এর ফলে জলাবদ্ধতা, সেচ সংকট এবং পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা ক্রমেই তীব্র হয়েছে। এই রাজধানী ঢাকার বুকে এক সময় কতো খাল-নালা ছিল এর হিসাব মেলা কঠিন হয়ে গেছে। এর অনেক খাল ও জলাশয় হারিয়ে যাচ্ছে। অবশিষ্টগুলোও প্রায় মৃত অবস্থায় রয়েছে। রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টার-আরডিআরসির এক গবেষণায় দেখা যায় যে, ঢাকায় ১৯৪০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে গত ৮৩ বছরে ১২০ কিলোমিটার (৩০৭ হেক্টর) খাল হারিয়েছে। অপরিকল্পিত নগরায়ন ও অবহেলার কারণে ৯৫টি খাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে মাত্র ১১টি খাল ও চারটি লেক নতুন করে খনন করা হয়েছে। আরডিআরসি ১৮৮৮ থেকে ১৯৪০ সালের ক্যাডাস্ট্রাল জরিপগুলোকে ২০২২ সালের স্যাটেলাইট ইমেজের সাথে তুলনা করেছে।

এ ক্ষেত্রে ঢাকার ৭৭টি প্রধান খাল ও লেক চিহ্নিত করে। এ জলাশয়গুলো মোট ৫৬৫ হেক্টর জায়গাজুড়ে ছিল। যার প্রায় ৫৫ ভাগ এখন হারিয়ে গেছে। হারিয়ে যাওয়ার মধ্যে ৩৩ দশমিক ৭৫ শতাংশে অবকাঠামো, ১৮ দশমিক ৯২ শতাংশে কৃষিজমি ও ১৬ দশমিক ৯৪ শতাংশে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা ছাড়াই যেখানে-সেখানে বড় বড় দালান ও অবকাঠামোর কারণে এসব জলাশয় হুমকির মধ্যে পড়েছে। ছোটখাটো খাল-ডোবা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অতি প্রয়োজনে কিছুটা লোপাট হলেও বড় বড় জলাশয়ও ভরাট করে ফেলা হচ্ছে। ঢাকার খালগুলো এক সময় ছিল পণ্য পরিবহনে অন্যতম মাধ্যম। রাজধানীর পান্থপথ খালটি ধানমন্ডি লেককে হাতিরঝিল লেকের সাথে সংযুক্ত করতো। এখন পান্থপথ রোডের নিচে খালটি চাপা পড়ে গেছে। এটি দিয়ে এক সময় বৃষ্টির পানি বেগুনবাড়ি খালে প্রবাহিত হতো। আরেকটি জলাশয় ছিল পরীবাগ খাল। যেটি শাহবাগ থেকে মগবাজার হয়ে প্রবাহিত হতো। এখন এটি সোনারগাঁও সড়কের কারণে হারিয়ে গেছে। এক সময়ের প্রধান জলাধার হিসেবে বিবেচিত আরামবাগ ও গোপীবাগ খালও ভরাট হয়ে গেছে। একইভাবে রাজাবাজার ও নন্দীপাড়া-ত্রিমোহিনী খাল বক্স কালভার্টে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। বিশেষ করে একটি দীর্ঘ খাল, যা মৎস্য ভবন এলাকা থেকে প্রবাহিত হয়ে বেশ বিখ্যাত এলাকার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করতো। এটিও কালের পরিক্রমায় সড়কে রূপান্তরিত হয়েছে। ধোলাইখাল ও দয়াগঞ্জ খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় ধোলাইখাল-দয়াগঞ্জ-মিরহাজিরবাগ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এমনকি কাঁঠালবাগান ও ধলপুর খালও একই পরিণতি পেয়েছে। এ জায়গাগুলো এখন জমি ও অবকাঠামো তৈরি করে দখল করা হয়েছে। অথচ প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন ২০০০ অনুযায়ী, কোনো পুকুর, জলাশয়, নদী, খাল ইত্যাদি ভরাট করা বেআইনি।

আইনের ৫ ধারায় বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক জলাধার হিসেবে চিহ্নিত জায়গার শ্রেণি পরিবর্তন বা অন্য কোনোভাবে ব্যবহার, ভাড়া, ইজারা বা হস্তান্তর বেআইনি। কোনো ব্যক্তি এ বিধান লঙ্ঘন করলে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এ নিয়ে মাঝেমধ্যে একটু আওয়াজ দেওয়া আমাদের পরিবেশবাদীদের মধ্যে আর কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। অথচ পরিবেশবিদ-পরিবেশবাদী পরিচয়ে কতো সুযোগ-সুবিধা তারা হাসিল করেন। আলোচিত হন, পরিচিতি ব্যবহার করে প্রাপ্তি ঘটান। এই বাস্তবতার মধ্যেই আবার নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি-যা শুধু একটি অবকাঠামোগত উদ্যোগ নয়; বরং বাংলাদেশের কৃষি, পরিবেশ ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে নতুন করে প্রাণবন্ত করে তোলার একটি প্রতীক্ষা। খালগুলো পুনঃখনন ও পুনরুদ্ধার গোটা দেশকে কেবল কৃষি সমৃদ্ধি দেবে না, গ্রামীণ অর্থনীতিকে স্পন্দন দেবে। বৃক্ষরোপণ ও সবজি চাষে মানুষের আয়ের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।

লেখক : সাংবাদিক-কলামিস্ট, ডেপুটি হেড অব নিউজ, বাংলাভিশন

বিডি প্রতিদিন/

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» জানেন কি সোনা আসলে পৃথিবীর নয়

» বগুড়া সড়ক দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া শিশুর চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

» ইফতার আয়োজনে চিকেন চিজ ব্রার্স্ট পিৎজা

» ঈদে মুক্তি পাচ্ছে না ‘পিনিক’

» পুলিশকে কুপিয়ে আসামি ছিনতাই

» জেলে না গেলে বুঝতাম না কত বড় জুলুমের শাসন ড. ইউনূস করে দিয়েছে: আনিস আলমগীর

» ‘জুলাই সনদের যেসব বিষয়ে বিএনপি একমত হয়েছিল, সরকার সেসব বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’

» বৃহস্পতিবার চাঁদ দেখার সম্ভাবনা কম, শনিবার হতে পারে ঈদ

» রাজধানীতে কালবৈশাখী ঝড়, মুষলধারে বৃষ্টি

» খাল খনন-বৃক্ষরোপণ : পরিবেশবাদীরা ব্যর্থ হলেও সরকার আগুয়ান

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

খাল খনন-বৃক্ষরোপণ : পরিবেশবাদীরা ব্যর্থ হলেও সরকার আগুয়ান

ছবি সংগৃহীত

 

মোস্তফা কামাল : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের এক মাসের মধ্যেই খাল খননের অভিযাত্রা। দিলেন একে একে নির্বাচনের সকল ওয়াদা পূরণের আশ্বাস। সরকার গঠনের পর মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই সরকার জানায়, ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারভিত্তিক কার্যক্রমের মধ্যে দেশব্যাপী ‘নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচি গুরুত্ব পায়। পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯৭৭ সালে প্রবর্তিত ‘স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন কর্মসূচি’র পদাঙ্ক অনুসরণ করে ২০২৬ সালে তিনি দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু করেছেন। গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা করা, সেচসুবিধা বৃদ্ধি, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এই  প্রকল্প। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর সরকার গঠন করে দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির এমন কিছু সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছেন, যা মানুষকে আশাবাদী করে তুলেছে।

অনেক বড় চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে দায়িত্ব গ্রহণের এক মাসের মধ্যেই একে একে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেন তিনি। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল ‘ফ্যামিলি কার্ড’। যেটি নিয়ে নানা অপপ্রচার চালানো হলে জনগণের মনে তৈরি হয় দ্বিধাদ্বন্দ্ব। সব অনিশ্চয়তা দূর করে তারেক রহমান ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।  ১৪ মার্চ ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের সরকারি সম্মানি প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

এতে দেশের হাজার হাজার মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন এবং মন্দির, বিহার ও গির্জার সেবকরা প্রথমবারের মতো সরাসরি রাষ্ট্রীয় ভাতার আওতায় এলেন। দ্রারিদ্র বিমোচনের জন্য দেশে জাকাত ব্যবস্থাপনাকে কীভাবে আরও কার্যকর ও সুশৃঙ্খল করা যায় সে সম্ভাবনা খুঁজে বের করতে দেশের শীর্ষ আলেমদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলা থেকে দেশের ৫৩টি খালের খনন কর্মসূচির উদ্বোধন।  নির্বাচনী ইশেতহারের অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২০ হাজার কিলোমিটার নদীনালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি নিয়েছে সরকার।

১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সালের মধ্যে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে কৃষিখাতে ‘সবুজ বিপ্লব’ আনতে এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন শুরু করেন। তারেক রহমানের আগামী ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল, নদী ও জলাধার খননের প্রধান উদ্দেশ্য সেচসুবিধা বৃদ্ধি, বন্যা ও জলবদ্ধতা দূর করা। খাল খননের পাশাপাশি এর তীরে ৭ হাজার বৃক্ষরোপণ এবং মাটির নিচের পানির স্তর ঠিক রাখতে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। খাল খনন ও পুনঃখননে কী প্রাপ্তি ঘটবে, এ বিষয়ে আগুয়ান ভূমিকার দায়িত্ব ছিল পরিবেশবাদীদের। তারা সেখানে ছিলেন দায়সারা। মাঝেমধ্যে কিছু তাগিদ ও তত্ত্ব কথার মধ্যেই দায়িত্ব শেষ করেছেন পরিবেশবাদীরা। খাল বা নদী পুনঃখননের ক্ষেত্রে পরিবেশবাদীদের কেবল খনন কাজের তদারকি নয়, বরং খনন-পরবর্তী টেকসই ব্যবস্থাপনা ও দখলমুক্ত রাখার বিষয়টি নিশ্চিতকরণে এখনো তাদের ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। আলামত বা নমুনা বলছে, পরিবেশবাদীরা তাদের এ দায়িত্বে ঘাটতি করলেও সরকার এগিয়ে যাবে তার অভীষ্ঠ লক্ষ্যে। মানুষ অপেক্ষমাণ দেশের মৃতপ্রায় খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের ফলো আপ এবং সাফল্য দেখতে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারদলীয় মন্ত্রী-এমপিদের খননযোগ্য খালের নাম, পরিধির তথ্য তৈরি করেছেন খুব কম সময়ের মধ্যে। বিভিন্ন জায়গায় খনন কাজে নেমে পড়েছেন তারাও। স্থানীয়ভাবে এই প্রকল্পে সমন্বয় করছে প্রশাসন। দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচি শুরু করার পর পরিবেশসম্মত উপায়ে তার ‘প্রবাহ-প্রকৃতি’ ঠিক রাখা ও রক্ষণাবেক্ষণে কর্তৃপক্ষের বাড়তি মনোযোগ দরকার, কারণ দখল, দূষণ বন্ধ না হলে সুফল আসবে না।

জিয়াউর রহমানের সময় এ কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে ৬৭৫.১৮ মাইল দীর্ঘ ১৯৩টি খাল খনন ও পুনঃখনন করা হয়। ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর যশোরের শার্শা উপজেলার উলশী এলাকায় ‘বেতনা নদী’ পুনঃখনন কাজ যখন উদ্বোধন করেন জিয়াউর রহমান, তখন তিনি সেনাপ্রধান ও উপপ্রধান সামরিক আইন প্রশাসক। তার এ কার্যক্রম শুরুর আগে দেশে ১০ শতাংশ জমিতে শুকনো মৌসুমে পানি সরবরাহ সম্ভব ছিল। খাল খনন কর্মসূচির পর অন্তত ৫২ লাখ একর জমিতে সেচের সুবিধা বৃদ্ধি পায়। এছাড়া মাছ উৎপাদন, পানি নিষ্কাশন ও নৌ চলাচলে সহায়ক হয় ওই প্রকল্প। বৃদ্ধি পায় খাদ্য উৎপাদন। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ ছিল গভীর সংকটের মুখে। যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি, ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো, খাদ্যঘাটতি, প্রশাসনে অস্থিরতা এবং সামাজিক অনিশ্চয়তা-সব মিলিয়ে নবীন রাষ্ট্রের সামনে ছিল পুনর্গঠনের কঠিন চ্যালেঞ্জ। মুক্তিযুদ্ধের পর দেশের শিল্প উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কৃষি খাত ছিল বিপর্যস্ত।

বিশ্বব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে মাথাপিছু আয় ছিল বিশ্বের নিম্নতমগুলোর একটি। সেই প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি রাষ্ট্র পরিচালনায় বাস্তববাদী, উৎপাদনমুখী এবং আত্মনির্ভর উন্নয়নের নীতি গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘সবুজ বিপ্লব’ ছিল সত্তরের দশকের শেষের দিকে দেশের কৃষি উৎপাদন ও খাদ্যে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে গৃহীত একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
এখন নতুন করে খাল খনন কর্মসূচির বিষয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় বলছে, এ কর্মসূচি কৃষি ও সেচ কার্যক্রমে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে, যা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে বলে একটা আশাবাদ সকলের মধ্যেই। এই কার্যক্রমের ফলে খরা প্রবণতা কমবে, অনদিকে বন্যা ও জলাবদ্ধতাও কমবে। যান্ত্রিক পদ্ধতিতে পুনঃখনন প্রকল্প শুরু করার পরিকল্পনা থাকলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা রয়েছে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর। এতে অনেক পরিবারের কমসংস্থান হবে। ১৯৯১ সালে সরকার গঠনের পর প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে নেওয়া খাল খননের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছিলেন। তিনি ১৯৯২ সালে কয়েকটি জেলায় তা শুরু করেন। পরে তা আর ব্যাপকতা পায়নি। সেখানে এবার  মাত্রা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্বাধীনতার আগে বাংলাদেশে নৌপথের দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ২৪ হাজার কিলোমিটার। পলি ও বালিতে ভরাট হয়ে বর্তমানে নৌপথ কমে হয়েছে চার হাজার কিলোমিটার।

বাংলাদেশ নদী রক্ষা কমিশনের ২০২২ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বিআইডব্লিউটিএ-এর তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, দেশে বর্ষা মৌসুমে যেখানে নৌপথ থাকে প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার, শুষ্ক মৌসুমে নৌপথ এসে দাঁড়ায় মাত্র ৪ হাজার ৩৪৭ কিলোমিটারে। একসময় গ্রামবাংলার জনপদ, কৃষি ও জীবিকার সঙ্গে খালগুলোর সম্পর্ক ছিল অবিচ্ছেদ্য। কিন্তু অবহেলা, দখল ও অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে দেশের অসংখ্য খাল আজ মৃতপ্রায়। এর ফলে জলাবদ্ধতা, সেচ সংকট এবং পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা ক্রমেই তীব্র হয়েছে। এই রাজধানী ঢাকার বুকে এক সময় কতো খাল-নালা ছিল এর হিসাব মেলা কঠিন হয়ে গেছে। এর অনেক খাল ও জলাশয় হারিয়ে যাচ্ছে। অবশিষ্টগুলোও প্রায় মৃত অবস্থায় রয়েছে। রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টার-আরডিআরসির এক গবেষণায় দেখা যায় যে, ঢাকায় ১৯৪০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে গত ৮৩ বছরে ১২০ কিলোমিটার (৩০৭ হেক্টর) খাল হারিয়েছে। অপরিকল্পিত নগরায়ন ও অবহেলার কারণে ৯৫টি খাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে মাত্র ১১টি খাল ও চারটি লেক নতুন করে খনন করা হয়েছে। আরডিআরসি ১৮৮৮ থেকে ১৯৪০ সালের ক্যাডাস্ট্রাল জরিপগুলোকে ২০২২ সালের স্যাটেলাইট ইমেজের সাথে তুলনা করেছে।

এ ক্ষেত্রে ঢাকার ৭৭টি প্রধান খাল ও লেক চিহ্নিত করে। এ জলাশয়গুলো মোট ৫৬৫ হেক্টর জায়গাজুড়ে ছিল। যার প্রায় ৫৫ ভাগ এখন হারিয়ে গেছে। হারিয়ে যাওয়ার মধ্যে ৩৩ দশমিক ৭৫ শতাংশে অবকাঠামো, ১৮ দশমিক ৯২ শতাংশে কৃষিজমি ও ১৬ দশমিক ৯৪ শতাংশে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা ছাড়াই যেখানে-সেখানে বড় বড় দালান ও অবকাঠামোর কারণে এসব জলাশয় হুমকির মধ্যে পড়েছে। ছোটখাটো খাল-ডোবা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অতি প্রয়োজনে কিছুটা লোপাট হলেও বড় বড় জলাশয়ও ভরাট করে ফেলা হচ্ছে। ঢাকার খালগুলো এক সময় ছিল পণ্য পরিবহনে অন্যতম মাধ্যম। রাজধানীর পান্থপথ খালটি ধানমন্ডি লেককে হাতিরঝিল লেকের সাথে সংযুক্ত করতো। এখন পান্থপথ রোডের নিচে খালটি চাপা পড়ে গেছে। এটি দিয়ে এক সময় বৃষ্টির পানি বেগুনবাড়ি খালে প্রবাহিত হতো। আরেকটি জলাশয় ছিল পরীবাগ খাল। যেটি শাহবাগ থেকে মগবাজার হয়ে প্রবাহিত হতো। এখন এটি সোনারগাঁও সড়কের কারণে হারিয়ে গেছে। এক সময়ের প্রধান জলাধার হিসেবে বিবেচিত আরামবাগ ও গোপীবাগ খালও ভরাট হয়ে গেছে। একইভাবে রাজাবাজার ও নন্দীপাড়া-ত্রিমোহিনী খাল বক্স কালভার্টে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। বিশেষ করে একটি দীর্ঘ খাল, যা মৎস্য ভবন এলাকা থেকে প্রবাহিত হয়ে বেশ বিখ্যাত এলাকার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করতো। এটিও কালের পরিক্রমায় সড়কে রূপান্তরিত হয়েছে। ধোলাইখাল ও দয়াগঞ্জ খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় ধোলাইখাল-দয়াগঞ্জ-মিরহাজিরবাগ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এমনকি কাঁঠালবাগান ও ধলপুর খালও একই পরিণতি পেয়েছে। এ জায়গাগুলো এখন জমি ও অবকাঠামো তৈরি করে দখল করা হয়েছে। অথচ প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন ২০০০ অনুযায়ী, কোনো পুকুর, জলাশয়, নদী, খাল ইত্যাদি ভরাট করা বেআইনি।

আইনের ৫ ধারায় বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক জলাধার হিসেবে চিহ্নিত জায়গার শ্রেণি পরিবর্তন বা অন্য কোনোভাবে ব্যবহার, ভাড়া, ইজারা বা হস্তান্তর বেআইনি। কোনো ব্যক্তি এ বিধান লঙ্ঘন করলে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এ নিয়ে মাঝেমধ্যে একটু আওয়াজ দেওয়া আমাদের পরিবেশবাদীদের মধ্যে আর কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। অথচ পরিবেশবিদ-পরিবেশবাদী পরিচয়ে কতো সুযোগ-সুবিধা তারা হাসিল করেন। আলোচিত হন, পরিচিতি ব্যবহার করে প্রাপ্তি ঘটান। এই বাস্তবতার মধ্যেই আবার নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি-যা শুধু একটি অবকাঠামোগত উদ্যোগ নয়; বরং বাংলাদেশের কৃষি, পরিবেশ ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে নতুন করে প্রাণবন্ত করে তোলার একটি প্রতীক্ষা। খালগুলো পুনঃখনন ও পুনরুদ্ধার গোটা দেশকে কেবল কৃষি সমৃদ্ধি দেবে না, গ্রামীণ অর্থনীতিকে স্পন্দন দেবে। বৃক্ষরোপণ ও সবজি চাষে মানুষের আয়ের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।

লেখক : সাংবাদিক-কলামিস্ট, ডেপুটি হেড অব নিউজ, বাংলাভিশন

বিডি প্রতিদিন/

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com